রবিবার, ২৬ Jun ২০২২, ০৫:৩৭ পূর্বাহ্ন

সর্বশেষ সংবাদ :
অগ্রযাত্রা’র অনুসন্ধানী তৎপরতায় ডিবির অভিযানে ভুয়া এসটিসি ব্যাংকে’র শীর্ষ ২ প্রতারক আটক

অগ্রযাত্রা’র অনুসন্ধানী তৎপরতায় ডিবির অভিযানে ভুয়া এসটিসি ব্যাংকে’র শীর্ষ ২ প্রতারক আটক

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ অনুসন্ধানমূলক জাতীয় সাপ্তাহিক পত্রিকা অগ্রযাত্রা’র অপরাধ অনুসন্ধান বিভাগ ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন ইউনিট এর দীর্ঘ ৫ মাসের অনুসন্ধানী তৎপরতার পর অবশেষে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের অভিযানে আটক হয়েছে বহুল আলোচিত ও ভুয়া এসটিসি ব্যাংকের স্বঘোষিত চেয়ারম্যান মির্জা আতিকুর রহমান ওরফে বিপুল, ও ভাইস চেয়ারম্যান মোর্শেদ ওরফে লিটু। কেবলমাত্র সমিতির লাইসেন্স নিয়ে নামের শেষে ব্যাংক জুড়ে দিয়ে সারাদেশে অন্তত ৫৬ টি শাখা খুলে শত শত তরুণ তরুণীকে ব্যাংকার বানানোর প্রলোভন দেখিয়ে জনপ্রতি ৫ থেকে ৮ লাখ করে টাকা হাতিয়েছে চক্রটি। প্রতারক ও ভুয়া এ প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে এর আগে খোদ বাংলাদেশ ব্যাংক এবং সমবায় মন্ত্রনালয় থেকেও বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার কাছে অভিযোগ দেয়া হয়। গত ৬ মাস আগে ভুয়া এসটিসি ব্যাংক কর্তৃক ব্যাংকার হবার আশায় টাকা হারানো অন্তত অর্ধশতাধিক ভুক্তভোগীর তথ্য পায় অগ্রযাত্রা’র অপরাধ অনুসন্ধান বিভাগ ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন ইউনিট এর সাংবাদিকরা৷ এরপরই বিষয়টি নিয়ে অনুসন্ধানে নামে টিম অগ্রযাত্রা। অগ্রযাত্রা’র অনুসন্ধানে জানা যায় শুধু ব্যাংকে চাকরি দেবার কথা বলে টাকা হাতানোই নয় বরং ভুয়া এই ব্যাংকে টাকা জমা রাখা গ্রাহকদের টাকা নিয়েও লাপাত্তা হয় চক্রটি। নারায়ণগঞ্জকেন্দ্রীক সমিতিট লাইসেন্স নেয়া ভুয়া এসটিসি ব্যাংকটির সংশ্লিষ্টরা ২০১৯ সালের দিকে সবচেয়ে বেশী প্রতারণা করে। সারাদেশের ৫৬ টি ব্রাঞ্চ চালু করে তারা। শাখাগুলোতে ব্যাংকের আদলে বিভিন্ন পদে ব্যাংকার হিসেবে অসংখ্য শিক্ষিত ও বেকার তরুণ তরুণীকে চাকরি দেয় ভুয়া এসটিসি ব্যাংক আর পদ অনুযায়ী চাকরি প্রার্থীদের কাছ থেকে নেয়া হয় ৫ থেকে ৮ লাখ করে টাকা। ভুক্তভোগীদের কাছ থেকে অফিস খরচ হিসেবে নেয়া হয় আরো দু লাখ করে টাকা। কিন্ত ২০১৯ সালেরই শেষের দিকে প্রশাসন জানতে পারে এ ব্যাংকটির কোন বৈধতাই নেই এরপর থেকে বিভিন্ন জেলা প্রশাসন এবং সমবায় অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে একের পর এক ব্যাংকটির শাখাগুলো বন্ধ করে দেয়া হয়। অবস্থা বেগতিক দেখে লাপাত্তা হয়ে যান ভুয়া এসটিসি ব্যাংকের মূলহোতা মির্জা আতিকুর রহমান, ভাইস চেয়ারম্যান মোর্শেদ লিটু, আজিমুদ্দিন প্রামানিকসহ এ চক্রের প্রতারকরা। এতে করে জনপ্রতি ৫ থেকে ৮ লাখ করে টাকা দিয়ে ব্যাংকার হওয়া এ ব্যাংকটির মাঠ পর্যায়ের কর্মীরা সম্বল খুইয়ে হতবিহ্বল হয়ে পরেন। অবশেষে অগ্রযাত্রা’র ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন ইউনিট এর সাংবাদিকরা বিভিন্ন কৌশলে অনুসন্ধান চালিয়ে এ চক্রটির প্রতারণার তথ্য সংগ্রহ করেন পাশাপাশি চক্রের মূলহোতা মির্জা আতিকুর রহমান ওরফে বিপুল এবং তার প্রধান সহযোগী মোর্শেদ আনাম ওরফে লিটুর অবস্থান সনাক্ত করতে সক্ষম হয়। অনুসন্ধানে আরো জানা যায় দেশজুড়ে নতুন করে আবারো প্রতারণার জন্য প্রস্ততি নিচ্ছে চক্রটি৷

অগ্রযাত্রা অনুসন্ধানে প্রাপ্ত সকল তথ্য ও প্রমাণাদি এবং রমনা থানায় একজন ভুক্তভোগীর করা মামলার কপি বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থাকে প্রেরণ করে৷ অগ্রযাত্রা’র দেয়া তথ্য যাচাই বাছাই শেষে গত ২২ মে রাতে রাজধানীর মগবাজারের একটি বাসা থেকে ভুয়া এসটিসি ব্যাংকের কথিত চেয়ারম্যান ও চক্রের মূলহোতা মির্জা আতিকুর রহমান ওরফে বিপুল এবং তার প্রধান সহযোগী মোর্শেদ আনাম ওরফে লিটুকে আটক করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ ডিবির রমনা জোনের একটি বিশেষ টিম। ডিবি সুত্র জানায় আটককৃত মির্জা আতিকুর রহমান কেবলমাত্র এসএসসি পাশ কিন্ত তিনি সমিতির লাইসেন্স নিয়ে নিজেকে এসটিসি ব্যাংকের চেয়ারম্যান দাবি করতেন! তার এ ব্যাংকে চাকরির নামে পদ অনুযায়ী ডিপোজিট হিসেবে জনপ্রতি ৫ লাখ থেকে ৮ লাখ করে টাকা নিতেন তিনি।
এ ব্যাপারে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ ডিবির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার হাফিজুর রহমান অগ্রযাত্রাকে বলেনঃ এসটিসি ব্যাংক একটি সম্পূর্ণ ভুয়া একটি ব্যাংক। তাদের ব্যাপারে খোদ বাংলাদেশ ব্যাংকেরও অভিযোগ রয়েছে৷ তাদের কেবল একটি সমিতির লাইসেন্স রয়েছে অথচ সমিতির লাইসেন্স নিয়ে তারা দীর্ঘদিন নিজেদের নামের শেষ ব্যাংক জুড়ে দিয়ে অসংখ্য তরুণ তরণীকে কথিত ব্যাংকার বানানোর নামে টাকা হাতিয়েছে। এ ব্যাপারে সংক্ষুব্ধ একজন ভুক্তভোগী রমনা থানায় মামলা দায়ের করলে ডিবি রমনা জোনের একটি টিম এ চক্রের মূলহোতা মির্জা আতিকুর রহমান ওরফে বিপুল এবং তার প্রধান সহযোগী মোর্শেদ আনাম ওরফে লিটুকে আটক করে। তিনি আরো বলেন – আটককৃতদের আদালতে সোপর্দ করে রিমান্ড চাইবে পুলিশ, এবং এ প্রতারক চক্রের বিষয়ে আরো গভীর তদন্ত করা হবে।
ভুয়া এসটিসি ব্যাংক প্রতারক চক্রটি আটকে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দেয়ায় অগ্রযাত্রাকে ধন্যবাদ জানিয়েছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ ডিবি।

উল্লেখ্য, গত কয়েকবছর ধরে সংঘবদ্ধ বিভিন্ন অপরাধ নিয়ে সাহসিকতার সাথে সক্রিয়ভাবে কাজ করে যাচ্ছে সরকারি মিডিয়া তালিকাভুক্ত অনুসন্ধানমূলক জাতীয় সাপ্তাহিক পত্রিকা অগ্রযাত্র’র সাংবাদিকরা। পত্রিকায় নিয়মিত অপরাধ অনুসন্ধানমূলক প্রতিবেদন প্রকাশের পাশাপাশি দেশের স্বার্থে অপরাধ ও অপরাধী সম্পর্কে প্রশাসনকে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য প্রদান করে আসছে টিম অগ্রযাত্রা।

ফেসবুকে সংবাদটি শেয়ার করুন




© All rights reserved © 2017 আলোকিত ভোরের বার্তা
Desing & Developed BY ThemesBazar.Com