রবিবার, ২৬ Jun ২০২২, ০৫:৪৯ পূর্বাহ্ন

সর্বশেষ সংবাদ :
নেত্রকোনায় লাখো মানুষের দুর্বিষহ জীবনযাপন

নেত্রকোনায় লাখো মানুষের দুর্বিষহ জীবনযাপন

নিজস্ব প্রতিনিধিঃ ভারী বর্ষণ এবং উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে নেত্রকোনার ১০ উপজেলার ৬৩ ইউনিয়ন বন্যাকবলিত হয়েছে। অপরিবর্তিত রয়েছে বন্যা পরিস্থিতি। এখনও পানিবন্দি লাখো মানুষ। এরই মধ্যে লক্ষাধিক মানুষ আশ্রয়কেন্দ্রে আশ্রয় নিয়েছেন। এ অবস্থায় সোমবার রাত পর্যন্ত দুই লক্ষাধিক মানুষ দুর্বিষহ জীবনযাপন করছেন।

জেলা প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, বন্যাকবলিত মানুষের দুর্ভোগ চরমে। এখনও পানিবন্দি রয়েছেন এক লাখ পাঁচ হাজার ৩৩০ জন। বন্যাদুর্গতদের দুর্ভোগ লাঘবে জেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে ৩২৯টি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে। এসব কেন্দ্রে আশ্রয় নিয়েছেন এক লাখ ১৫ হাজার ৯২৩ জন। মঙ্গলবার থেকে জেলার চার উপজেলায় বন্যাদুর্গতদের দুর্ভোগ লাঘবে কাজ করবে সেনাবাহিনী। উপজেলাগুলো হলো কলমাকান্দা, দুর্গাপুর, বারহাট্টা ও মোহনগঞ্জ।

সেনাবাহিনীর ১৯ পদাতিক ডিভিশনের জিওসি মেজর জেনারেল নকিব আহমেদ চৌধুরী বলেন, মঙ্গলবার সকাল থেকে চার উপজেলায় বন্যাদুর্গতদের দুর্ভোগ লাঘবে কাজ করবে সেনাবাহিনী।

বন্যাদুর্গত ও স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, চার দিনের ভারী বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা ঢলে জেলার ১০ উপজেলার ৬৩ ইউনিয়ন প্লাবিত হয়েছে। ঢলের পানিতে রাস্তাঘাট, ঘরবাড়ি, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ডুবে গেছে। অসংখ্য পুকুর তলিয়ে ভেসে গেছে মাছ। সবচেয়ে খারাপ অবস্থা কলমাকান্দা, দুর্গাপুর বারহাট্টা ও খালিয়াজুরী উপজেলার মানুষের। ৬৩টি ইউনিয়নের মানুষের বাড়িঘর প্লাবিত হওয়ায় পানিবন্দি হয়ে পড়ে লাখ লাখ মানুষ। রাস্তাঘাট তলিয়ে যাওয়ায় ও বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হওয়ায় কেউ কারও খোঁজখবর পর্যন্ত নিতে পারছেন না। সবাই দুর্বিষহ জীবনযাপন করছেন।

নেত্রকোনা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী এম এল সৈকত বলেন, নেত্রকোনার কংশ নদের পানি বিপৎসীমার ২০ সেন্টিমিটার, উব্দাখালি নদীর পানি ৮৮ সেন্টিমিটার এবং ধনু নদীর পানি ৬০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এছাড়া সোমেশ্বরী নদীর বিজয়পুর পয়েন্টে বিপৎসীমার ২৫৯ সেন্টিমিটার ও দুর্গাপুর পয়েন্টে ৩১২ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। যেসব এলাকা প্লাবিত হয়েছে, সেসব এলাকা থেকে পানি নামেনি। এজন্য মানুষজন পানিবন্দি।

এদিকে, জেলা প্রশাসক অঞ্জনা খান মজলিশ ও সেনাবাহিনীর ১৯ পদাতিক ডিভিশনের জিওসি মেজর জেনারেল নকিব আহমেদ চৌধুরী খালিয়াজুরী উপজেলার বন্যাকবলিত বিভিন্ন স্থান ও আশ্রয়কেন্দ্র পরিদর্শন করেন। এ সময় তারা আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে শুকনা খাবার ও ত্রাণ বিতরণ করেন।

জেলা প্রশাসক অঞ্জনা খান মজলিশ বলেন, লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দি। আশ্রয়কেন্দ্রে আছে লক্ষাধিক। বন্যাদুর্গতদের জন্য সরকারের পক্ষ থেকে এ পর্যন্ত ১৩ লাখ টাকা, ৩৩৩ মেট্রিক টন চাল ও চার হাজার ৯৫০ প্যাকেট শুকনা খাবার বরাদ্দ পেয়েছি। এর মধ্যে বন্যাদুর্গতদের মাঝে ১৩১ মেট্রিক টন চাল, তিন লাখ পাঁচ হাজার টাকা ও দুই হাজার ৩০০ প্যাকেট শুকনা খাবার বিতরণ করা হয়েছে। ত্রাণ সহায়তা অব্যাহত আছে।

ফেসবুকে সংবাদটি শেয়ার করুন




© All rights reserved © 2017 আলোকিত ভোরের বার্তা
Desing & Developed BY ThemesBazar.Com