সোমবার, ০৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৩, ০২:৫৭ পূর্বাহ্ন
স্টাফ রিপোর্টারঃরাজশাহীর পবা উপজেলার পারিলা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের নতুন দায়িত্বপ্রাপ্ত সভাপতি সোহরাব আলীর অপসারণ ও শাস্তির দাবিতে ঝাড়ু ও জুতা মিছিল, কুশপুত্তলিকা দাহ, মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
আজ রোববার বিকালে পারিলা বাজারে এসব কর্মসূচি পালন করেন স্থানীয় এলাকাবাসী। কর্মসূচিতে স্থানীয় পাঁচ শতাধিক নারী-পুরুষ অংশ নিয়ে সোহরাবের অপসারণ ও শাস্তির দাবি জানান
সমাবেশে বক্তারা বলেন, নির্বাচনে বারবার নৌকার বিপক্ষে অবস্থান এবং মাদ্রাসা ও গোরস্থানের জমি গোপনে বিক্রিসহ নানা অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও সোহরাব আলীকেই রাজশাহীর পবা উপজেলার পারিলা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি করা হয়। সভাপতি হয়েই জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের গণযোগাযোগ বিষয়ক সম্পাদক আসাদুল্লাহ গালিবের ওপর দলবল নিয়ে হামলা চালান তিনি। খবর পেয়ে গালিবের বাবা প্রবীণ আওয়ামী লীগ নেতা হেলাল উদ্দিন তালুকদার ও পবা উপজেলা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি জহুরুল ইসলাম চঞ্চল তাকে বাঁচাতে গেলে তাদেরকেও বেদম মারধর করা হয়। পরে তারা তিনজন হাসপাতালে চিকিৎসা নেন।
বক্তরা আরও বলেন, বিতর্কিত এই নেতা যাতে পুনরায় ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি না হতে পারেন সেজন্য রাজশাহী সিটি করপোরেশনের মেয়র ও পবা উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতির কাছে লিখিত অভিযোগ করেন স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা।
মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ শেষে বিতর্কিত নেতা সোহরাব আলীর অপসারণ ও গ্রেপ্তার দাবিতে একটি ঝাড়ু মিছিল বের হয়। মিছিলটি গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে পারিলা বাজারে এসে শেষ হয়। পরে সেখানে সোহরাব আলীর কুশপুত্তলিকা দাহ করা হয়।
সমাবেশে বক্তব্য রাখেন- এহিয়া তালুকদার, পারিলা ইউনিয়নের ৪নং ওয়ার্ডের সাদস্য শফিকুল আলম, পারিলা ইউনিয়নের বাসিন্দা আলাউদ্দিন মন্ডল, নুরুজ্জামান, ৪ নম্বর পারিলা ইউনিয়নের সংরক্ষিত সদস্য মমতাজ বেগম, স্থানীয় বাসিন্দা জালাল উদ্দীন তালুকদারসহ আরও অনেকে।
উল্লেখ্য, মাদ্রাসা গোরস্থানের জমি গোপনে বিক্রি, স্থানীয় সমস্যা সমাধানের নামে ও চাকরির প্রলোভনে টাকা আদায়সহ নানা অনিয়ম-দুর্নীতিতে জড়িয়ে কোটি কোটি টাকার মালিক বনে যান সোহরাব আলী। সেই প্রভাবে পবা উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক পদে এবার প্রার্থীও হয়েছিলে তিনি। কিন্তু নানা বিতর্কের কারণে পদে আসতে পারেননি। পারিলা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগেও যেন বিতর্কিত এ নেতার পদ না পান এজন্য দাবি জানান এলাকার ত্যাগী নেতারা।
এসব অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত সোহরাব আলীকে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।