শনিবার, ০১ অক্টোবর ২০২২, ০১:৫৪ অপরাহ্ন

সর্বশেষ সংবাদ :
বাগমারার রামরামা বরজপাড়া থেকে কুখ্যাত মাদক ব্যাবসায়ী আনোয়ার ৫১৫ পিছ ইযাবা সহ পুলিশের হাতে আটক আমতলী সাংবাদিক ক্লাব ও উপজেলা প্রেস ক্লাবের যৌথ সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত চারঘাটে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীদের ধর্মীয় গীর্জা নির্মান প্রকল্পের শুভ উদ্বোধন বাঘায় বিট পুলিশিং সমাবেশ অনুষ্ঠিত আরএমপি কর্ণহার থানা এর উদ্দ‍্যোগে শারদীয় দূর্গাপূজার সম্প্রতি সমাবেশ অনুষ্ঠিত রাজশাহীতে চাকরির আশায় যুবক নিঃশ্ব প্রকাশিত সংবাদের প্রতিবাদ ও ব্যাখ্যা রাজশাহীতে চাকরি ছাড়ার ১ বছর পরে মামলা করে অর্থ দাবি নাসিরনগর দুর্গাপূজা উপলক্ষে জি,আর(চাল) বিতরণ চারঘাটে প্রতিমায় রং তুলির আচঁড়ে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন কারিগররা তিতাসে খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির ১৫ টাকা কেজি দরে চাউল বিতরণে অনিয়ম
তিতাসের ৩০ টি গ্রামের ৬০ হাজার মানুষের পারাপারের এক মাত্র ভরসা নৌকা

তিতাসের ৩০ টি গ্রামের ৬০ হাজার মানুষের পারাপারের এক মাত্র ভরসা নৌকা

এস এ ডিউক ভূঁইয়া-তিতাস (কুমিল্লা) প্রতিনিধিঃ

কুমিল্লার তিতাসের গোমতী- কাঁঠালিয়া নদীর সংযোগ মাইটা নদীতে পারাপারের সেতু না থাকায় চরম ভোগান্তিতে ৩০ গ্রামবাসী।পার হওয়ার জন্য ৩০ গ্রামের প্রায় ৬০ হাজার মানুষের এক মাত্র ভরসা নৌকা।জানা যায়,৩০ গ্রামের মানুষের পারাপারের এক মাত্র ভরসা হলো নৌকা।প্রতিদিনই তিতাস ও দাউদকান্দির উপজেলার প্রায় ৩০টি গ্রামের মানুষ পারাপার করছে নৌকায়।গোমতী- কাঁঠালিয়া নদীর সংযোগ মাটিয়া নদীর দুই তীরের প্রায় ৬০ হাজার মানুষ বছরের পর বছর নৌকায় পারাপার করছে বলে জানা গেছে।এই নদীতে সেতু না থাকায় চরম ভোগান্তিতে বর্ষা মৌসুমে নৌকা দিয়ে চলাচল করতে হয় ৩০ গ্রামের প্রায় ৬০ হাজার মানুষ।এই নদীর ওপর একটি সেতু নির্মাণের প্রয়োজন বলে দাবি জানান এই অঞ্চলের মানুষেরা।সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়,গোমতী- কাঁঠালিয়া নদীর সংযোগ মাটিয়া নদীটি তিতাস ও দাউদকান্দি উপজেলার শেষ সীমানায় অবস্থিত হওয়ায় দুই উপজেলার প্রায় ৩০ গ্রামের মানুষের পারাপারের এক মাত্র ভরসা হলো নৌকা।এই নদীর পূর্ব পাশে তিতাস উপজেলার বালুয়াকান্দি,কাকিয়াখালি,শাহবৃদ্ধি,মজিদপুর,আলীর গাঁও,
কড়িকান্দি,কলাকান্দি,
একলারামপুর,শাহপুর,
শোলাকান্দি,লালপুর,ভাটিপাড়া,
দুধঘাটা,দড়িগাঁও,মোহনপুর, ৫ আটি আর দাউদকান্দি অংশে বারজা,বাহেরচর,হাসনাবাদ,
চাউরারচর,নন্দিরচর,গংগারদ,বালুরচরসহ প্রায় ৩০ টি গ্রামের হাজার হাজার বাসিন্দাদের ছোট মাটিয়া (মাইট্টা) নদী পারাপারে একমাত্র ভরসা নৌকা।তবে শুকনো মৌসুমে বাঁশেরসাঁকোর ওপর দিয়ে চলাচল করতে পারলেও বর্ষা মৌসুমে নৌকা দিয়ে চলাচল করে মানুষজন।দেশে বর্তমানে ডিজিটাল উন্নয়নের ধারায় সম্পৃক্ত হলেও একটি ব্রিজের অভাবে এখনো পিছিয়ে রয়েছে এই জনপদের জীবনমান।ফলে স্থানীয় কৃষকরা উৎপাদিত ফসলের নায্য মূল্য থেকে বঞ্চিত হয়ে আসছে বলেও জানা গেছে।এই অঞ্চলের মানুষের যোগাযোগ ব্যবস্থা না থাকায় তাদের মধ্যে এখনো আধুনিকতার কোন ছোঁয়াই স্পর্শ করেনি।যার কারণে প্রতিনিয়তই থমকে যাচ্ছে এই অঞ্চলের কৃষকসহ হাজার হাজার মানুষের অর্থনৈতিক চাকা।প্রতিদিনই নৌকায় ৩ থেকে ৪ হাজার মানুষ চলাচল করছে।নিত্যপ্রয়োজনীয় কাজ ছাড়াও স্কুল-কলেজ ও মাদরাসার শিক্ষার্থীরা নৌকায় পারাপার করছে বলে জানা যায়। এব্যাপারে দাউদকান্দি উপজেলার বাজরা গ্রামের ওয়ার্ড মেম্বার শরীফ মিয়া বলেন, ভাজরা এস ই এস পি মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজ ও আইয়ুব আলী ইসলামিয়া দাখিল মাদরাসা রয়েছে,ওপার থেকে এপারে প্রতিদিনই অসংখ্য মানুষসহ ছাত্র-ছাত্রীরা আসছে।এই নদীতে একটা সেতু নির্মাণ করে দিলে মানুষের অনেক উপকার হতো।এব্যাপারে বালুয়াকান্দি গ্রামের সাবেক মেম্বার আবুল কাসেম জানান,মাটিয়া নদীতে একটি ব্রিজ না থাকায় আমাদের এলাকার মানুষের অনেক কষ্ট হচ্ছে,বর্ষা মৌসুমে নৌকায় ও শুকনো মৌসুমে বাঁশেরসাঁকোর ওপর দিয়ে হাজার হাজার মানুষ চলাচল করছে। সরকারের কাছে আমাদের একটাই দাবি মাটিয়া নদীতে একটি ব্রিজ নির্মাণ করে দিলে মানুষের বিরাট উপকার হবে।
বালুয়াকান্দি গ্রামের মুদিদোকানী হক মিয়া জানান,এই নদীর ওপর দিয়ে হাজার হাজার মানুষ আসা যাওয়া করে,এর মধ্যে ৪০-৫০ জন ছাত্র-ছাত্রীও নৌকায় চলাচল করে।তবে শুকনো মৌসুমে বাঁশেরসাঁকোর ওপর দিয়ে আসা যাওয়া করতে পরালেও বর্ষ মৌসুমে এই নদীর ওপর দিয়ে মানুষের চলাচলে বিরাট অসুবিধা হয়।তিতাস উপজেলার মধ্যে এক মাত্র এই নদীর ওপরই কোন ব্রিজ নেই। আমরা শুকনো মৌসুমে
মানুষের কাছ থেকে টাকা তোলে ১ লক্ষ ২০ হাজার টাকা দিয়ে এই নদীর ওপর একটি বাঁশেরসাঁকো নির্মাণ করি।কিন্তু বর্ষা মৌসুমে এই নদীতে পানি বেড়ে যায়, এজন্য এই নদীতে একটা নৌকা রাখি, আর সেই নৌকা দিয়ে ২০ টাকা করে মানুষ আসা যাওয়া করে।একটা ব্রিজের অভাবে মানুষ ১০ বছর যাবৎ অনেক কষ্ট করে এই নদীর ওপর দিয়ে আসা যাওয়া করছে।স্থানীয় সমাজ সেবক সুমন মিয়া বলেন ,
গোমতী-কাঁঠালিয়া নদীর সংযোগ মাটিয়া নদীতে একটা সেতু জরুরি দরকার,একটা সেতুর অভাবের মানুষ অনেক কষ্ট করছে। বালুয়াকান্দি গ্রামের মো.হানিফ মিয়া জানান,আমরা এই নদী নিয়ে অনেক সংকটে আছি অনেক বছর ধইরা।আজ থেকে ৪০-৫০ বছর ধইরা গুদারা দিয়া এই গ্রামের লোক এপার-ওপার আসা যাওয়া করে। তখন থেইকা গুদারা রেট দিন দিন বাইড়া যাইতো গা,আবার রোদও মাঝি পার করতে গিয়া বিরক্ত হইয়া চইলা যাইতো।আজ থেকে ৮ বছর আগে আমরা সিদ্ধান্ত নেই একটি বাঁশেরসাঁকো দেয়ার জন্য এবং মানুষের কাছ থেকে টাকা-পয়সা তুইলা এই নদীতে একটা বাঁশেরসাঁকো দেই।এই দুর্ভোগের হাত থেকে আমরা রেহাই চাই এবং এই নদী ওপর একটি ব্রিজ নির্মাণ করে দেয়ার জন্য সরকারের কাছে দাবি জানাই।আশা করি আমাদের দুর্ভোগের কথা চিন্তা করে এই নদী ওপর একটি ব্রিজ নির্মাণ করে দিবেন। স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা বলেন,বাপ-দাদার পাশাপাশি আমাদের ও বর্তমান প্রজন্মের জীবন কেটে গেলো বাঁশেরসাঁকো আর নৌকা করে নদী পার হয়ে।আমরা জানি না আগামী প্রজন্মরা কি তাদের জীবনদশায় এই নদীতে একটি সেতু কিংবা ব্রিজ দেখতে পাবে।শুকনো ও বর্ষা এই দুই মৌসুমেই অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থার মধ্যে এই নদীর ওপর দিয়ে চলাচল করতে হয়।তাই ছোট-বড় দুর্ঘটনা তো ঘটছেই।এবিষয়ে উপজেলা প্রকৌশলী ইঞ্জিনিয়ার মোজাম্মেল হক বলেন, আমি তো সরজমিন গিয়েছিলাম,এই মূহুর্তে এই নদীতে ব্রীজ নির্মাণের কোনো পরিকল্পনা নেই,সামনে সুযোগ পেলে এই নদীতে ব্রিজ নির্মাণের ব্যবস্থা করে দিবো।

ফেসবুকে সংবাদটি শেয়ার করুন




© All rights reserved © 2017 আলোকিত ভোরের বার্তা
Desing & Developed BY ThemesBazar.Com