সোমবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২২, ০৩:২৫ অপরাহ্ন

সর্বশেষ সংবাদ :
বাগমারা তাহেরপুর প্রেসক্লাবের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি সাংবাদিক সনেট নাসিরনগর উপজেলা মহিলা আওয়ামী লীগের রুবিনা আক্তারকে আহবায়ক ও সাহানা বেগমকে সদস্য সচিব করে নতুন কমিটি গঠন আত্রাইয়ে শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে নিরাপত্তা বিষয়ক মতবিনিময় সভা সাংবাদিককে হেনস্থা করে পুলিশ বললেন, ‘দেখেন! দেখেন! নামটা ভালো করে দেখে যান’ সাংবাদিককে হেনস্থা করে পুলিল বললেন, ‘দেখেন! দেখেন! নামটা ভালো করে দেখে যান’ আত্রাইয়ে মিনা দিবস উদযাপন আত্রাইয়ে অ্যাসিস্টিভ ডিভাইস বিতরণ আমতলীতে পোস্টার লাগিয়ে চিকিৎসার প্রচারনা, ভুয়া ডাক্তারের আত্রাইয়ে মিনা দিবস পালিত নাসিরনগরে আর্দশ বীজতলা করে রোপা আমন রোপন হচ্ছে। বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা
রাজশাহীর রাজশাহীর গোদাগাড়ীর অধ্যক্ষ সেলিম রেজার পিটুনি খাওয়ার ফোনালাপ ফাঁস

রাজশাহীর রাজশাহীর গোদাগাড়ীর অধ্যক্ষ সেলিম রেজার পিটুনি খাওয়ার ফোনালাপ ফাঁস

নিজস্ব প্রতিবেদক :রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলার রাজাবাড়ী ডিগ্রী কলেজের অধ্যক্ষ সেলিম রেজার ফোনালাপ ফাঁস করেছেন রাজশাহী জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান আসাদ। এমপি তাকে মারপিট করেননি বলে সংবাদ সম্মেলন করার দুই দিন পর মারধরের শিকার সেই অধ্যক্ষের ফোনালাপ ফাঁস হলো।

ফোনালাপে অজ্ঞাতনামা এক ব্যক্তিকে গত ৭ জুলাই রাতে কী ঘটেছিল তার বর্ণনা দিতে শোনা যায় অধ্যক্ষ সেলিম রেজাকে। যেটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাই হয়েছে। তবে এ ব্যাপারে তাঁর কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। কয়েকবার চেষ্টা করে তার ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।

গত বৃহস্পতিবার দুপুরে সংবাদ সম্মেলন ডাকেন রাজশাহী-১ (গোদাগাড়ী-তানোর) আসনের সংসদ সদস্য ওমর ফারুক চৌধুরী। সেই সংবাদ সম্মেলনে এমপির পাশে বসেই তার হাতে লাঞ্ছিত হওয়ার ঘটনাটি সরাসরি অস্বীকার করেন অধ্যক্ষ সেলিম রেজা। মারধরের প্রচারণার জন্য এমপি এবং অধ্যক্ষ সেলিম রেজা রাজশাহী জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান আসাদকে দায়ী করেন।

সেই সংবাদ সম্মেলনের দুই দিন পর শনিবার (১৬ জুলাই) নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করলেন আওয়ামী লীগ নেতা আসাদুজ্জামান আসাদ। এ সময় কলেজ অধ্যক্ষের কল রেকর্ড সবার সামনে উপস্থাপন করেছেন তিনি। যদিও কল রেকর্ডটি এর আগেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ফাঁস হয়েছে। শনিবার বেলা ১১টার দিকে মহানগরের লক্ষ্মীপুর মোড়ে আসাদুজ্জামান আসাদ নিজ কার্যলয়ে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেন।

সেখানে গত ৭ জুলাইয়ের ঘটনার প্রায় ৯ মিনিট ২৪ সেকেন্ডের একটি কল রেকর্ড সাংবাদিকদের দেয়া হয়। ফোনালাপে শোনা যায়, এক ব্যক্তিকে এমপির হাতে শারীরিক নির্যাতনের শিকার হওয়ার বিষয়টির বর্ণনা দিচ্ছেন অধ্যক্ষ সেলিম রেজা। তাঁর সেই কথোপকথন পাঠকদের জন্য তুলে ধরা হলো-

অজ্ঞাতনামা ব্যক্তি: এমপি কেন ডাকলো?

অধ্যক্ষ: এমপি ডাকেনি তো, ডেকেছে সেকেন্ড এমপি রাজু। রাজু ডাকেছে সকাল আটটার সময়, প্রিন্সিপাল মহোদয়দের এমপি সালাম দিয়েছে। সব প্রিন্সিপালরা রাত ১০টার সময় আসবে আপনি আসেন।

অজ্ঞাতনামা ব্যক্তি: আচ্ছা।

অধ্যক্ষ: সব প্রিন্সিপালকে এই কথা বলছে, অনেক প্রিন্সিপালরা বলছে কী ব্যাপার, বলছে আসেন বুঝতে পারবেন। সকল প্রিন্সিপালকে ডেকেছে রাজু।

অজ্ঞাতনামা ব্যক্তি: পালপুরের প্রিন্সিপাল কী গিয়েছিল?

অধ্যক্ষ: না না। পালপুরের প্রিন্সিপাল যায়নি, ওই যে গালাগালি করার পর থেকে ও আর যায় না। করোনার আগে নিয়োগ নিয়ে গালাগালি করেছিল এবং আমাদের পিকনিকে সবার সামনে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে। তারপর থেকে আসে না।

অজ্ঞাতনামা ব্যক্তি: আপনাদের অ্যাসোসিয়েশনে থেকে লাভ কী?

অধ্যক্ষ: কিচ্ছু নাই; কিচ্ছু নাই, অধ্যক্ষ ফোরাম অ্যাসোসিয়েশন আমার প্রয়োজন নাই। আমার ১২ জন অধ্যক্ষ যদি এক জায়গায় হয় আপনি এটা অন্যায় বললেন, অন্যায় করলেন, কেউ লড়তে পারব?

অজ্ঞাতনামা ব্যক্তি: তারপরে ডাকলো আপনি গেলেন?

অধ্যক্ষ: হ্যাঁ, গেলাম। আমি তো এমনি যাই না। যখন ডাকে মিটিংয়ে ডাকে তখনই যাই। অন্যান্য অধ্যক্ষরা সপ্তাহের মধ্যে তিন দিনই দেখা করে।

অজ্ঞাতনামা ব্যক্তি: আচ্ছা।

অধ্যক্ষ: আমি আর ২৪ নগরের অধ্যক্ষ হাবিব ভাই, কোনো মিটিং না হলে আমরা যাই না।

অজ্ঞাতনামা ব্যক্তি: আচ্ছা।

অধ্যক্ষ: এটা তার রাগ। আর আমি যখন যাই তখন হাবিব ভাই ডেকে নেয়। সেই দিন (৭ জুলাই) হাবিব ভাই ও আমি এক সাথে গিয়েছি। হাবিবকে তো চেনেন?

অজ্ঞাতনা ব্যক্তি: হ্যাঁ চিনি।

অধ্যক্ষ: এই দুটা লোক ছাড়া সবাই ওর পা চাটা।

অজ্ঞাতনামা ব্যক্তি: ওখানে যাওয়ার পরে?

অধ্যক্ষ: ওখানে যাওয়া পরে শিরোইলের মজিবর ছিল।শিরোইল স্কুল এমপিওভুক্ত হওয়ার কারণে ফুল নিয়ে গিয়েছিল। আমাদের লিডার ছিল, সাধারণ সম্পাদক রশিদ ভাই ছিল। তারপর ওরা বাহিরে আসলো। ওমর প্লাজার পূর্ব পাশে তখন রাজু আসলো, বলছে, এমপি স্যার উঠে যাবেন ঢুকেন ঢুকেন।

ঢোকার পর বসতে বলে, সেলিম তোমার কলেজে কী হয়েছে। আমি বলি, স্যার কিছু হয়নি। (অপ্রকাশ যোগ্য ভাষা) তোর অফিসে বসে আমার নামে, আমার চরিত্র নিয়ে কথা বলে। তুই আমাকে না বলে… ওই শিক্ষকদের বিচার না করে… বলতে বলতে কিল, ঘুষি, লাথি মারতে থাকে, এরপর হকিস্টিক দিয়ে মারধর করতে থাকে।

গত ৭ জুলাই রাতে রাজশাহী মহানগরীর থিম ওমর প্লাজায় নিজের চেম্বারে ডেকে নিয়ে কলেজ অধ্যক্ষ সেলিম রেজাকে পেটানোর অভিযোগ উঠে রাজশাহী-১ (গোদাগাড়ী-তানোর) আসনের সংসদ সদস্য ওমর ফারুক চৌধুরীর বিরুদ্ধে। এরই মধ্যে এই ঘটনা অনুসন্ধানে তদন্তে কমিটি গঠন করেছে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়। এর পর সংবাদ সম্মেলন করে ওই ঘটনা অস্বীকার করেন এমপি ও অধ্যক্ষ দুইজনেই।

 

ফেসবুকে সংবাদটি শেয়ার করুন




© All rights reserved © 2017 আলোকিত ভোরের বার্তা
Desing & Developed BY ThemesBazar.Com