শনিবার, ৩১ Jul ২০২১, ০৯:৫৫ অপরাহ্ন

সর্বশেষ আপডেট :
নাটোরের লালপুরে ভেজাল গুড় তৈরী, সংরক্ষণ ও বিক্রয় করার অপরাধে আটক-১ ৫০,০০০/-(পঞ্চাশ হাজার) টাকা জরিমানা ও দুই মাসের কারাদন্ড নাটোর গুরুদাসপুর মাদক বিরোধী অভিযান করে ডোপ টেস্ট শেষে ০৬ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের! নাসিরনগরে মোবাইল কোর্টে ১৫,৫০০ টাকা জরিমানা আদায় পুঠিয়া পৌর ছাত্রলীগের উদ্যোগে মাক্স বিতরণ বেহাল দশা আত্রাইয়ের আহসানগঞ্জ হাটের প্রবেশের রাস্তা,দৃষ্টি নেই কর্তৃপক্ষের রাজনীতি করতে হলে সততা থাকতে হয় বললেন-আ.লীগ নেতা গিয়াস উদ্দিন তিতাসের কলাকান্দি ইউনিয়ন আ.লীগের উদ্যোগে সজীব ওয়াজেদ জয়ের জন্মদিন পালিত নাসিরনগরে স্বেচ্ছাসেবক লীগের প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী ও সজীব ওয়াজেদ জয়ের জন্মদিন পালিত সর্বাত্মক লকডাউন বাস্তবায়নে এসপি মহোদয়ের জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম ও বিভিন্ন চেকপোস্ট পরিদর্শন আত্রাইয়ে করোনার ফ্রি রেজিস্ট্রেশন ক্যাম্প উদ্বোধন

ফিলিস্তিন-ইসরায়েল সংকটের সমাধান কতদূর?

ফিলিস্তিন-ইসরায়েল সংকটের সমাধান কতদূর?

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : মধ্যপ্রাচ্যের ফিলিস্তিন ভূখণ্ডে দ্বিরাষ্ট্রভিত্তিক সমাধানের কথা বলে ইসরায়েল রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠিত হয়। ১৯৪৮ সালে নিজেদের ভূমি থেকে ফিলিস্তিনিদের উচ্ছেদ করে ইহুদিদের পুনর্বাসন করা হয়।

তারও আগে থেকে ওই অঞ্চলের আরবদের উচ্ছেদ করে ব্রিটেন। এরপর থেকে অবৈধভাবে পর্যায়ক্রমে ফিলিস্তিনিদের উচ্ছেদ করে বসানো হয় ইহুদি বসতি। এমনকি মুসলমান, ইহুদি ও খ্রিষ্টানদের কাছে পবিত্র আল-আকসা মসজিদও নিয়ন্ত্রণে নেয় জায়ানবাদীরা।

এসব নিয়ে লেগেই আছে সংঘাত। ফিলিস্তিনিরা কখনোই নিজেদের বসতভিটা হারানো এবং আল-আকসার প্রার্থনায় বাধা দেওয়ার বিষয়টি মেনে নিতে পারেননি, মেনে নেননি জাতিসংঘের দ্বিরাষ্ট্রভিত্তিক সমাধানও। তারপরও এতেই একমাত্র সমাধান দেখেছেন জাতিসংঘের মহাসচিব, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টরা। ২০২১ সালে দাঁড়িয়েও সেই সমাধানের প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন। অথচ এই ৭৩ বছরে ফিলিস্তিনিদের গল্প শুধু হারানোর। আজও কেউ জানে না দ্বিরাষ্ট্র সমাধান আদৌ বাস্তবে রূপ নেবে কি-না।

ইসরায়েল-ফিলিস্তিন সংঘাতের অবসানে দুই রাষ্ট্র সমাধানের ধারণা কয়েক দশক ধরে আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে আলোচিত হয়ে আসছে। এই কূটনীতির মূল ভিত্তি ইসরায়েলের পাশাপাশি সার্বভৌম ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা এবং জেরুজালেম হবে দুই রাষ্ট্রের রাজধানী। খবর বিবিসি, আলজাজিরা ও এএফপির

মধ্যপ্রাচ্যের ফিলিস্তিন নামে যে এলাকা, সেটি ছিল অটোমান সাম্রাজ্যের অধীন। কিন্তু প্রথম বিশ্বযুদ্ধে অটোমানদের পরাজয়ের পর ব্রিটেন ফিলিস্তিনের নিয়ন্ত্রণ নেয়। তখন সেখানে যারা থাকত তাদের সংখ্যাগরিষ্ঠ ছিল আরব, সেইসঙ্গে কিছু ইহুদি। ১৯২০ থেকে ৪০ দশকের মধ্যে ইউরোপ থেকে দলে দলে ইহুদিরা ফিলিস্তিনে যেতে শুরু করে এবং তাদের সংখ্যা বাড়তে থাকে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর নতুন রাষ্ট্র তৈরির স্বপ্ন দেখছিল তারা।

১৯৪৮ সালে জাতিসংঘে এক ভোটাভুটিতে ফিলিস্তিনকে দুই টুকরো করে ইহুদি ও আরব রাষ্ট্র গঠনের কথা বলা হয়। জেরুজালেম থাকবে একটি আন্তর্জাতিক নগরী হিসেবে। ইহুদিরা এই প্রস্তাব মেনে নিলেও তা প্রত্যাখ্যান করেন আরব নেতারা। ব্রিটেন এই সমস্যার সমাধান করতে ব্যর্থ হয়ে ১৯৪৮ সালে ফিলিস্তিন ছাড়ে এবং ইহুদিরা রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার ঘোষণা দেন। প্রতিবাদ জানান ফিলিস্তিনিরা এবং শুরু হয় যুদ্ধ। এতে প্রতিবেশী দেশগুলোও অংশ নেয়। তখন লাখ লাখ ফিলিস্তিনি ঘরবাড়ি ছেড়ে পালিয়ে যেতে বাধ্য হন। এর ফলে বেশিরভাগ এলাকা দখল করে নেয় ইসরায়েল। সেই শুরু, এরপর থেকে আন্তর্জাতিক আইন উপেক্ষা করে পর্যায়ক্রমে ফিলিস্তিনিদের উচ্ছেদ করে তাদের বসতভিটায় ইহুদি সেটলাদের পুনর্বাসন করেছে ইসরায়েল। ধীরে ধীরে জেরুজালেমের বেশিরভাগই দখলে নেয় তারা।

ইসরায়েল ও ফিলিস্তিনিদের মধ্যে যেহেতু কখনোই শান্তিচুক্তি হয়নি, তাই উভয় পক্ষই অপর পক্ষকে দোষারোপ করতে থাকে। দু’পক্ষের মধ্যে এই কয়েক দশকে বহু যুদ্ধ হয়েছে। তাতেও কার্যত ভূমি উদ্ধার করতে পারেননি ফিলিস্তিনিরা, বরং ৭৩ বছর ধরে শুধু নিজেদের ভূমি হারিয়ে চলেছেন তারা, হয়েছেন শরণার্থী। তাদের বেশিরভাগই অবরুদ্ধ গাজা ও পশ্চিম তীরে বসবাস করেন। প্রতিবেশী জর্ডান, সিরিয়া এবং লেবাননেও আছেন অনেক ফিলিস্তিনি। তাদের আর কখনও নিজভূমে ফিরতে দেয়নি ইসরায়েল।

ফিলিস্তিনিদের ভূমি উদ্ধারের আন্দোলন নিয়ে বহু সংঘাত-যুদ্ধ হলেও যুক্তরাষ্ট্রসহ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় কেবল দ্বিরাষ্ট্রের সমাধানের কথা বলেছে। কার্যত তারা সমাধান করেনি। এখন ইসরায়েল পুরো জেরুজালেম নগরীকেই তাদের রাজধানী বলে দাবি করে। অন্যদিকে, ফিলিস্তিনিরা পূর্ব জেরুজালেমকে তাদের ভবিষ্যৎ রাষ্ট্রের রাজধানী হিসেবে চায়। সম্প্রতিও আল-আকসায় প্রার্থনায় বাধা ও ফিলিস্তিনিদের উচ্ছেদ নিয়ে বিরোধ থেকে ১১ দিনের সংঘাত হয়। এতে আড়াই শতাধিক ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন।

এমন পরিস্থিতিতে ফের দ্বিরাষ্ট্র সমাধানের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন বাইডেন। শুক্রবার গাজার পুনর্গঠনে সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণে সহায়তার প্রতিশ্রুতি দিয়ে তিনি বলেছেন, ইসরায়েলের পাশাপাশি ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠাই সংঘাতের ‘একমাত্র জবাব’। তিনি দ্বিরাষ্ট্রের সমাধানের কথা বললেও বাস্তবে তার এ বিষয়ে কোনো পরিকল্পনাই নেই। এ জন্য বিশ্নেষকরা বলছেন, অদূর ভবিষ্যতে এই সংকটের সমাধান দেখা যাচ্ছে না।

নিউজটি শেয়ার করুন...

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *




© All rights reserved © 2018-2020  Bhorarbatra.Com
Desing & Developed BY ThemesBazar.Com